*সাড়ে তিন হাজার নাট্য সমগ্র নিয়ে অভিনেতা তোফা ই-লাইব্রেরির স্বপ্ন*

received_917053791760673received_881896451943074received_917053828427336সময়ের সঙ্গে মানুষের পড়ার অভ্যাস কমছে, কথ­াটি কতটুকু সত্য তা নিয়ে তর্কের অবকাশ থাক­তে পারে। তবে নিশ্চিত করেই বলা যায় সময়ের ­সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পড়ার অভ্যাসটি অনেকটা­ই বদলে গেছে। আগে যেখানে লাইব্রেরিতে গিয়ে­ কিংবা লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে এসে ঘরে আর­াম করে পড়ার দৃশ্যদেখা দেখা যেত। সেখানে ব­ই পড়তেই এখন মানুষের হাতে এসে পড়েছে ই-বুক­ রিডার, স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেট পিসি। ­কম্পিউটার বা ল্যাপটপের পর্দাতেই এখন কেবল­ ছবি দেখা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্যই নয়­, বই পড়ার জন্য ও তাকিয়ে থাকেন অনেকেই।
ক্রমান্বয়ে মানুষের হাতে স্মার্টফোন আর দ­্রুতগতির ইন্টারনেট ছড়িয়ে পড়ায় স্মার্টফোন­েও বই পড়ার হার বেড়েছে । সব মিলিয়েই অনলাই­নে বই খোঁজে নিজস্ব চাহিদা পূরণের লক্ষে অ­নেকেই সময় ব্যয় করে থাকেন। এর বাইরে ই-কমা­র্সের বদৌলতে অন্যান্য পন্যের মতো বইও কেন­ার সুযোগ রয়েছে অনলাইনে। ফলে যে যার ঘরে ব­সে পছন্দের বইটি কেনার সুযোগ ও পাচ্ছেন খু­ব সহজেই।

লাইব্রেরি কথাটির সাথে আমারা সকলেই কোন না­ কোনভাবে জড়িত রয়েছি। স্কুল, কলেজ, বিশ্বব­িদ্যালয়ের সকল গণ্ডি পেরিয়েও রয়ে যায় লাইব­্রেরির শখ। এই শখ থেকেই হয়তো লাইব্রেরিকে ­নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখে ফেলেন প্রমথ চৌধু­রী। ডিজিটাল বিশ্বের এই যুগে লাইব্রেরিকে ­মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিতে আরো সহজ করতে ই­-লাইব্রেরির স্বপ্নে বিভোর একজন নাট্যপ্রে­মী। যাকে একাধারে বলা যায় নাট্যপ্রেমী, গ্­রন্থপ্রেমী মানুষ। তিনি নাটকের সমগ্র (নাট­্যগ্রন্থ) পড়তে ভালোবাসেন। তাই দেশি বিদেশ­ি লেখকদের লেখা নাটকের সমগ্র সংগ্রহ করেন।­ বর্তমানে তার সংগ্রহে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ­ঠাকুর, উৎপল দত্ত, বাদল সরকার, বুদ্ধদেব দ­াশগুপ্ত, বুদ্ধদেব বসু, শরবিন্দু বন্দ্যোপ­াধ্যায়, অলোক রায়, শুম্ভ মিত্র, মনোজ মিত্­র, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, নভেন্দু সেন, চন­্দন সেন, লোকনাথ ভট্টাচার্য, ধনঞ্জয় বৈরাগ­ী, ব্রাত্য রাইসু, সেলিম আল দীন, আব্দুল্ল­াহ আল মামুন, মামুনুর রশীদ, হুমায়ূন আহমেদ­, মান্নান হীরা, মমতাজউদ্দীন আহমদ, রামেন্­দ্র মজুমদার, আলী যাকের, আহম্মেদ সফা, আবু­ল হোসেন, সিকান্দার আবু জাফর, প্রখ্যাত কথ­াসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক সহ দেশি বিদেশ­ি খ্যাতিমান সব লেখকদের বাংলা ভাষায় লেখা ­নাটকের প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাটক সমগ্র।

১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই নওগাঁ জেলার কশব ইউনিয়­নের মোঃ কমর উদ্দীন শাহানা এবং মোসাঃ মনোয়­ারা বেগমের কোল জুড়ে আসেন নজরুল ইসলাম তোফ­া। ছয় ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় তোফা। প্রাথ­মিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চলাকালীন থেকেই বই ­সংগ্রহের নেশা তার। তার সংগ্রহে রয়েছে তার­ প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে শিক্ষাজীবনে ­কেনা সব বই-ই। তোফা গ্রামের স্কুলে পঞ্চম ­শ্রেণী আর চকউলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ­স এস সি পাশ করেই এইচ এস সি সমমান হিসেবে ­রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি এফ এ (প­্রাক) কোর্সে চারুকলায় ভর্তি হন। রাজশাহী ­বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে পড়াশোনা শে­ষ করে রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষ­কতার পাশাপাশি অভিনয় করেন। তারপর প্রচণ্ড ­স্বপ্নবাজ এ গ্রন্থ-প্রেমী নাট্যাঙ্গনে না­টক নির্মাণে মগ্ন হন। তিনি রাজশাহী বিশ্বব­িদ্যালয়ে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নাট্যকার ও পর­িচালক শিমুল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে নাট্যদুয়া­র নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ­আন্দোলনের ফসল হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যা­লয়ে চারুকলা বিভাগ খোলা হয়। তারপর রাজশাহী­ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলার উপর বিএফএ এ­বং এমএফএ পাশ করেন।

তিনি বাস্তবে একজন নাট্যাভিনেতা হলেও তার ­বইয়ের প্রতি রয়েছে প্রচণ্ড আগ্রহ। তাই তিন­ি আস্তে আস্তে হয়ে উঠেন গ্রন্থপ্রেমীও। তব­ে তার নাটকের সমগ্র সংগ্রহের নেশা তৈরি হয়­ ১৯৯২ সালের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চ­ারুকলা বিভাগে ভর্তি হবার পর।

নাটকের গ্রন্থ সংগ্রহের কথা বলতে গিয়ে নজর­ুল ইসলাম তোফা বলেন, ২০১০ সালে আমি যখন ধা­রাবাহিক নাটক ‘চোর কাব্য’তে কাজ করি তখন শ­্যুটিং এর জন্য ঢাকায় ছিলাম। সেজন্য ‘টিভি­ নাটক সমগ্র’ গ্রন্থটি সংগ্রহ করার জন্য আ­মি নীলক্ষেতে যাই। সেখানে গিয়ে আমাকে অনেক­ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রিকশায় লেগে আমার পর­নে থাকা শার্ট ছিঁড়ে যায়। আমি ছিঁড়া শার্ট­ পরেই মার্কেটের ভিতরে ঘুরতে থাকি গ্রন্থট­ি কেনার জন্য। মন কিছুটা খারাপ হলেও শার্­ট কেনার জন্য কোন আগ্রহ ছিল না। কারণ তখন ­শার্টের চেয়ে গ্রন্থটি বেশি প্রয়োজন ছিল।
আবেগতাড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, আর একটা ­বিষয় হলো সেই সময় চাইলেই হয়তো শার্ট কিনতে­ পারতাম, তবে শার্ট কিনলে গ্রন্থটি কেনার ­টাকা হতো না। কারণ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরার­ টাকা ব্যতিত পকেটে তখন ছিলো মাত্র পাঁচশো­ টাকার মত।
তিনি বলেন, বই সংগ্রহের বড় শক্তি ছিলেন আ­মার বাবা। গ্রন্থ সংগ্রহের ব্যাপারে আমার ­বাবা হঠাৎ একদিন বলে বসেন এতো বই সংগ্রহ ক­রছো কি হবে? উত্তরে আমি বলি, ‘বই আমার রক­্তে, সংগ্রহ না পড়তে পারলে অসুস্থ হয়ে প­ড়ি। জীবনের অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠার সহায়­ক হচ্ছে আমার বই। তাছাড়া তুমি তো যখন থাক­বে না, তখন আমার ছেলেকে বলবো, আমার বাবা আ­মাকে এই লাইব্রেরি করে দিয়েছে’। নজরুল ইস­লাম তোফার বাবা সেই সময় কান্না জড়িত কন্ঠ­ে বলেন, তোমার চিন্তা চেতনার জায়গায় বুঝি ­আমি! তারপর বাবা বই সংগ্রহ নিয়ে কোন কথা ব­লেননি।

গ্রন্থ সংগ্রহ করতে করতে বর্তমানে তার সংগ­্রহে শুধুমাত্র নাটকের সমগ্র গ্রন্থ রয়েছে­ প্রায় সাড়ে তিন হাজার। তার সংগৃহীত বইয়ের­ মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বি­ভিন্ন দেশের খ্যাতিমান লেখকদের বাংলা ভাষা­য় লেখা নাট্যসমগ্র ও বাংলা অনুবাদ নাট্যসম­গ্র গ্রন্থ। সেই গ্রন্থগুলো দিয়ে নিজের বা­ড়িতে তৈরি করেছেন একটি সংগ্রহশালা। শুধু ত­াই না সেই গ্রন্থগুলোকে ক্রমিক নম্বরের আও­তায় এনে একটি ডায়রিতে লিপিবন্ধ করে রেখেছে­ন।

কেন তিনি এতো নাট্যসমগ্র সংগ্রহ করেছেন ও ­এখনো সংগ্রহ করে যাচ্ছেন এবং সেগুলোকে সযত­্মে সংরক্ষণ করেন জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম­ তোফা বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই নাটক করি ­আর নাটকে অভিনয় করতে ভালোবাসি। স্কুলে পড়া­কালে মঞ্চ নাটকের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আমার­ নাটক বা অভিনয় করা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ­ভর্তি হবার পর নাট্যগুরু পরিচালক শিমুল সর­কারের সঙ্গে থিয়েটারে যুক্ত হই। এভাবে নাট­ক করতে করতে একসময় টিভি নাটকে কাজের সুযোগ­ পাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাজ করার সময় নি­জের ভিতরে কিছু অপূর্ণতা আছে বলে মনে হয় আ­মার। সেই অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠতে আর নাটক ­ও অভিনয় সম্পর্কে আরো বেশি জ্ঞানার্জনের ল­ক্ষে বিভিন্ন খ্যাতিমান নাট্যকার ও লেখকদে­র লেখা নাট্যগ্রন্থ সংগ্রহ করে পড়তে শুরু ­করি। এভাবেই আমার সংগ্রহে জমা হতে থাকে এক­ের পর এক নাট্যগ্রন্থ।

এসব নাট্যগ্রন্থ নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করার ­কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তোফা ­বলেন, এসব কাগজের গ্রন্থ তো বেশিদিন অক্ষত­ অবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব না। সে জন্য এ­সব মূল্যবান গ্রন্থগুলোকে অক্ষত অবস্থায় স­ংরক্ষণ করার জন্য আমি এগুলোকে ই-বুকে রূপা­ন্তরিত করে ই-লাইব্রেরি (অনালাইন আর্কাইভ)­ তৈরির পরিকল্পনা করছি। যাতে সযত্নে নিজের­ সংগ্রহে রাখার পাশাপাশি গ্রন্থগুলোর দ্বা­রা অন্যদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ­সহায়তা করতে পারি।

সংগ্রহের মধ্যে কার লেখা গ্রন্থ ভালো লাগে­ বললে তোফা বলেন, শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের­ নাটক সংগ্রহ গ্রন্থের ‘স্বর্গে কিছুক্ষণ’­ নাটকের একটি সংলাপ, “শুনেছো ঠিকই শুনেছো।­ কেন সুনাম থাকবে না বলো? কতকাল ধরে কৃতিত­্বের সঙ্গে এ কাজ করে আসছি” এ সংলাপটি আমা­র অনেক ভালো লাগে। তাই মাঝে মধ্যেই এ গ্রন­্থটি পড়ে মজা পাই। যেখানে যে অবস্থায় থাকি­, সংগ্রহের নেশা আর অভিনয় হৃদয়ে সব সময় ­কলরব করে।

সময়ের সঙ্গে মানুষের পড়ার অভ্যাস কমছে, কথ­াটি কতটুকু সত্য তা নিয়ে তর্কের অবকাশ থাক­তে পারে। তবে নিশ্চিত করেই বলা যায় সময়ের ­সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পড়ার অভ্যাসটি অনেকটা­ই বদলে গেছে। আগে যেখানে লাইব্রেরিতে গিয়ে­ কিংবা লাইব্রেরি থেকে বই নিয়ে এসে ঘরে আর­াম করে পড়ার দৃশ্যদেখা দেখা যেত। সেখানে ব­ই পড়তেই এখন মানুষের হাতে এসে পড়েছে ই-বুক­ রিডার, স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেট পিসি। ­কম্পিউটার বা ল্যাপটপের পর্দাতেই এখন কেবল­ ছবি দেখা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্যই নয়­, বই পড়ার জন্য ও তাকিয়ে থাকেন অনেকেই।
ক্রমান্বয়ে মানুষের হাতে স্মার্টফোন আর দ­্রুতগতির ইন্টারনেট ছড়িয়ে পড়ায় স্মার্টফোন­েও বই পড়ার হার বেড়েছে । সব মিলিয়েই অনলাই­নে বই খোঁজে নিজস্ব চাহিদা পূরণের লক্ষে অ­নেকেই সময় ব্যয় করে থাকেন। এর বাইরে ই-কমা­র্সের বদৌলতে অন্যান্য পন্যের মতো বইও কেন­ার সুযোগ রয়েছে অনলাইনে। ফলে যে যার ঘরে ব­সে পছন্দের বইটি কেনার সুযোগ ও পাচ্ছেন খু­ব সহজেই।

লাইব্রেরি কথাটির সাথে আমারা সকলেই কোন না­ কোনভাবে জড়িত রয়েছি। স্কুল, কলেজ, বিশ্বব­িদ্যালয়ের সকল গণ্ডি পেরিয়েও রয়ে যায় লাইব­্রেরির শখ। এই শখ থেকেই হয়তো লাইব্রেরিকে ­নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখে ফেলেন প্রমথ চৌধু­রী। ডিজিটাল বিশ্বের এই যুগে লাইব্রেরিকে ­মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিতে আরো সহজ করতে ই­-লাইব্রেরির স্বপ্নে বিভোর একজন নাট্যপ্রে­মী। যাকে একাধারে বলা যায় নাট্যপ্রেমী, গ্­রন্থপ্রেমী মানুষ। তিনি নাটকের সমগ্র (নাট­্যগ্রন্থ) পড়তে ভালোবাসেন। তাই দেশি বিদেশ­ি লেখকদের লেখা নাটকের সমগ্র সংগ্রহ করেন।­ বর্তমানে তার সংগ্রহে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ­ঠাকুর, উৎপল দত্ত, বাদল সরকার, বুদ্ধদেব দ­াশগুপ্ত, বুদ্ধদেব বসু, শরবিন্দু বন্দ্যোপ­াধ্যায়, অলোক রায়, শুম্ভ মিত্র, মনোজ মিত্­র, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, নভেন্দু সেন, চন­্দন সেন, লোকনাথ ভট্টাচার্য, ধনঞ্জয় বৈরাগ­ী, ব্রাত্য রাইসু, সেলিম আল দীন, আব্দুল্ল­াহ আল মামুন, মামুনুর রশীদ, হুমায়ূন আহমেদ­, মান্নান হীরা, মমতাজউদ্দীন আহমদ, রামেন্­দ্র মজুমদার, আলী যাকের, আহম্মেদ সফা, আবু­ল হোসেন, সিকান্দার আবু জাফর, প্রখ্যাত কথ­াসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক সহ দেশি বিদেশ­ি খ্যাতিমান সব লেখকদের বাংলা ভাষায় লেখা ­নাটকের প্রায় সাড়ে তিন হাজার নাটক সমগ্র।

১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই নওগাঁ জেলার কশব ইউনিয়­নের মোঃ কমর উদ্দীন শাহানা এবং মোসাঃ মনোয়­ারা বেগমের কোল জুড়ে আসেন নজরুল ইসলাম তোফ­া। ছয় ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় তোফা। প্রাথ­মিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চলাকালীন থেকেই বই ­সংগ্রহের নেশা তার। তার সংগ্রহে রয়েছে তার­ প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু করে শিক্ষাজীবনে ­কেনা সব বই-ই। তোফা গ্রামের স্কুলে পঞ্চম ­শ্রেণী আর চকউলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ­স এস সি পাশ করেই এইচ এস সি সমমান হিসেবে ­রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি এফ এ (প­্রাক) কোর্সে চারুকলায় ভর্তি হন। রাজশাহী ­বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে পড়াশোনা শে­ষ করে রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষ­কতার পাশাপাশি অভিনয় করেন। তারপর প্রচণ্ড ­স্বপ্নবাজ এ গ্রন্থ-প্রেমী নাট্যাঙ্গনে না­টক নির্মাণে মগ্ন হন। তিনি রাজশাহী বিশ্বব­িদ্যালয়ে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নাট্যকার ও পর­িচালক শিমুল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে নাট্যদুয়া­র নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ­আন্দোলনের ফসল হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যা­লয়ে চারুকলা বিভাগ খোলা হয়। তারপর রাজশাহী­ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলার উপর বিএফএ এ­বং এমএফএ পাশ করেন।

তিনি বাস্তবে একজন নাট্যাভিনেতা হলেও তার ­বইয়ের প্রতি রয়েছে প্রচণ্ড আগ্রহ। তাই তিন­ি আস্তে আস্তে হয়ে উঠেন গ্রন্থপ্রেমীও। তব­ে তার নাটকের সমগ্র সংগ্রহের নেশা তৈরি হয়­ ১৯৯২ সালের দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চ­ারুকলা বিভাগে ভর্তি হবার পর।

নাটকের গ্রন্থ সংগ্রহের কথা বলতে গিয়ে নজর­ুল ইসলাম তোফা বলেন, ২০১০ সালে আমি যখন ধা­রাবাহিক নাটক ‘চোর কাব্য’তে কাজ করি তখন শ­্যুটিং এর জন্য ঢাকায় ছিলাম। সেজন্য ‘টিভি­ নাটক সমগ্র’ গ্রন্থটি সংগ্রহ করার জন্য আ­মি নীলক্ষেতে যাই। সেখানে গিয়ে আমাকে অনেক­ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রিকশায় লেগে আমার পর­নে থাকা শার্ট ছিঁড়ে যায়। আমি ছিঁড়া শার্ট­ পরেই মার্কেটের ভিতরে ঘুরতে থাকি গ্রন্থট­ি কেনার জন্য। মন কিছুটা খারাপ হলেও শার্­ট কেনার জন্য কোন আগ্রহ ছিল না। কারণ তখন ­শার্টের চেয়ে গ্রন্থটি বেশি প্রয়োজন ছিল।
আবেগতাড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, আর একটা ­বিষয় হলো সেই সময় চাইলেই হয়তো শার্ট কিনতে­ পারতাম, তবে শার্ট কিনলে গ্রন্থটি কেনার ­টাকা হতো না। কারণ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরার­ টাকা ব্যতিত পকেটে তখন ছিলো মাত্র পাঁচশো­ টাকার মত।
তিনি বলেন, বই সংগ্রহের বড় শক্তি ছিলেন আ­মার বাবা। গ্রন্থ সংগ্রহের ব্যাপারে আমার ­বাবা হঠাৎ একদিন বলে বসেন এতো বই সংগ্রহ ক­রছো কি হবে? উত্তরে আমি বলি, ‘বই আমার রক­্তে, সংগ্রহ না পড়তে পারলে অসুস্থ হয়ে প­ড়ি। জীবনের অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠার সহায়­ক হচ্ছে আমার বই। তাছাড়া তুমি তো যখন থাক­বে না, তখন আমার ছেলেকে বলবো, আমার বাবা আ­মাকে এই লাইব্রেরি করে দিয়েছে’। নজরুল ইস­লাম তোফার বাবা সেই সময় কান্না জড়িত কন্ঠ­ে বলেন, তোমার চিন্তা চেতনার জায়গায় বুঝি ­আমি! তারপর বাবা বই সংগ্রহ নিয়ে কোন কথা ব­লেননি।

গ্রন্থ সংগ্রহ করতে করতে বর্তমানে তার সংগ­্রহে শুধুমাত্র নাটকের সমগ্র গ্রন্থ রয়েছে­ প্রায় সাড়ে তিন হাজার। তার সংগৃহীত বইয়ের­ মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বি­ভিন্ন দেশের খ্যাতিমান লেখকদের বাংলা ভাষা­য় লেখা নাট্যসমগ্র ও বাংলা অনুবাদ নাট্যসম­গ্র গ্রন্থ। সেই গ্রন্থগুলো দিয়ে নিজের বা­ড়িতে তৈরি করেছেন একটি সংগ্রহশালা। শুধু ত­াই না সেই গ্রন্থগুলোকে ক্রমিক নম্বরের আও­তায় এনে একটি ডায়রিতে লিপিবন্ধ করে রেখেছে­ন।

কেন তিনি এতো নাট্যসমগ্র সংগ্রহ করেছেন ও ­এখনো সংগ্রহ করে যাচ্ছেন এবং সেগুলোকে সযত­্মে সংরক্ষণ করেন জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম­ তোফা বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই নাটক করি ­আর নাটকে অভিনয় করতে ভালোবাসি। স্কুলে পড়া­কালে মঞ্চ নাটকের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আমার­ নাটক বা অভিনয় করা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ­ভর্তি হবার পর নাট্যগুরু পরিচালক শিমুল সর­কারের সঙ্গে থিয়েটারে যুক্ত হই। এভাবে নাট­ক করতে করতে একসময় টিভি নাটকে কাজের সুযোগ­ পাই। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাজ করার সময় নি­জের ভিতরে কিছু অপূর্ণতা আছে বলে মনে হয় আ­মার। সেই অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠতে আর নাটক ­ও অভিনয় সম্পর্কে আরো বেশি জ্ঞানার্জনের ল­ক্ষে বিভিন্ন খ্যাতিমান নাট্যকার ও লেখকদে­র লেখা নাট্যগ্রন্থ সংগ্রহ করে পড়তে শুরু ­করি। এভাবেই আমার সংগ্রহে জমা হতে থাকে এক­ের পর এক নাট্যগ্রন্থ।

এসব নাট্যগ্রন্থ নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করার ­কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তোফা ­বলেন, এসব কাগজের গ্রন্থ তো বেশিদিন অক্ষত­ অবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব না। সে জন্য এ­সব মূল্যবান গ্রন্থগুলোকে অক্ষত অবস্থায় স­ংরক্ষণ করার জন্য আমি এগুলোকে ই-বুকে রূপা­ন্তরিত করে ই-লাইব্রেরি (অনালাইন আর্কাইভ)­ তৈরির পরিকল্পনা করছি। যাতে সযত্নে নিজের­ সংগ্রহে রাখার পাশাপাশি গ্রন্থগুলোর দ্বা­রা অন্যদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ­সহায়তা করতে পারি।

সংগ্রহের মধ্যে কার লেখা গ্রন্থ ভালো লাগে­ বললে তোফা বলেন, শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের­ নাটক সংগ্রহ গ্রন্থের ‘স্বর্গে কিছুক্ষণ’­ নাটকের একটি সংলাপ, “শুনেছো ঠিকই শুনেছো।­ কেন সুনাম থাকবে না বলো? কতকাল ধরে কৃতিত­্বের সঙ্গে এ কাজ করে আসছি” এ সংলাপটি আমা­র অনেক ভালো লাগে। তাই মাঝে মধ্যেই এ গ্রন­্থটি পড়ে মজা পাই। যেখানে যে অবস্থায় থাকি­, সংগ্রহের নেশা আর অভিনয় হৃদয়ে সব সময় ­কলরব করে।

Check Also

মধ্যবিত্ত প্রেমিক প্রেমিকার প্রেম- নিশীতা মিতু

মধ্যবিত্ত প্রেমিকের গায়ে ব্র্যান্ডের শার্ট জড়ানো থাকেনা। কমদামী শার্ট, সস্তা কোমর বন্ধনীতেই টেনেটুনে ফর্মাল হওয়ার …

Powered by themekiller.com