আজ বিশ্ব মা দিবসঃ সকল মায়ের প্রতি রইল ভালবাসা

বিশ্ব মা দিবস

রুপসী বাংলাঃ
মা শব্দটি সাথে প্রতিটি ব্যক্তির জড়িয়ে আছে গভীর আবেগ, ভালবাসা, মমতার ছায়া । বলা হয়ে থাকে পৃথিবীতে এক মাত্র ব্যক্তি যে কিনা সন্তানের মুখ দেখে বলে দিতে পারে তার মনের কথা । কতই না স্বযত্নে মানুষ করে তার সন্তানকে, নিজে না খেয়ে থাকলেও কখনই উপবাস রাখতে চায় না তার সন্তানকে । পড়নে তাঁর ছেঁড়া শাড়ি থাকলেও সন্তানের জন্য কিনতে চাই নতুন নতুন পোশাক । আর সন্তানের সুচিন্তা করে কত মা যে তার শেষ অবলম্বন টুকুও তার সন্তানের হাতে তার ইতিহাঁস আমাদের কারো অজানা নয় । তাই এই বিশ্ব মা দিবসে মাকে নিয়ে আমার লেখা একটি কবিতা নিজের ভাষায় –
মা
চক্ষু মেলিয়া এই ভুবনে দেখেছি যার বদন খানি সে তুমি মা।
কাঁদিয়াছি সজোরে শুধু পেতে তোমার মাতৃবৎসল সুখ ও মায়া।
এই ধরণীতে নাহি কেহ আপন শুধু তুমি ছাড়া।
আজও আমি ঘুমিয়েছি ঘন্ট পাঁচেক একাকী কক্ষে নিয়ে আমার জীবনের সর্বোচ্চ তাপমাত্র।
কেহ বুঝেনি কষ্ট আমার, জানি বুঝবে না তুমি ছাড়া।
তুমি পাশে থাকলে হয়তো আমার আগে তুমিই করিতে
কান্না, খুলে গিয়ে শত আবেগ, অভিমান, বেদনা।
অভাগা আমি ছাড়িয়ে এসেছি তোমাকে লাভ করিতে কিছু আপেক্ষিক ছলনা।
আমার জীবনও জীবনানন্দ দাশের মত, দিয়ে আচন্ন কিছু রিক্তের বেদনা ।
জানি না এই জনমে পাবো কতটুকু সান্নিধ্য তোমার,
কতটা করিতে পারবো অর্চনা।
তবে আবার যদি সৃষ্টিকর্তা সৌভাগ্য দেন
তবে সবকিছু বিসর্জিত করিয়া,
করবো কেবল তোমার দু’টু চরণের প্রার্থনা।
বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাস শতবর্ষের পুরনো। যুক্তরাষ্ট্রে আনা জারভিস নামের এক নারী মায়েদের অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। এ কাজের মধ্য দিয়ে তিনি মায়েদের কর্মদিবসের সূচনা করেন।
১৯০৫ সালে আনা জারভিস মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের যাত্রা।
এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী সমাজে বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় এটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
উদযাপনের জনপ্রিয়তায় বড়দিন এবং ভালোবাসা দিবসের পর মা দিবসের অবস্থান। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশে এ দিবসটি ঘটা করে পালনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। যদিও মাকে সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা দেখাতে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে নেয়ার যুক্তি অনেকের কাছেই সেভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে অনেকেই মনে করেন মাকে সম্মান দেখাতে, তাকে গভীরভাবে স্মরণ করতে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত আন্তর্জাতিক মা দিবসের গুরুত্ব রয়েছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রদ্ধা এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার সম্পদ এ মাকে সম্মান জানাতেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব মা দিবস।
আমাদের দেশে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালিত হলেও বিভিন্ন দেশে বছরের বিভিন্ন সময়ে পালন করা হয় মা দিবস।
সাধারণত সাদা কারনেশন ফুলকে মা দিবসের প্রতীক বিবেচনা করা হয়। এই দিনে সন্তানরা ফুল এবং নানা প্রছন্দের সামগ্রী মাকে উপহার দিয়ে থাকে। অনেকেই ছুটি নিয়ে মায়ের একান্ত সান্নিধ্যে দিনটি কাটিয়ে দেয়।
হাজারও না বলা কষ্ট স্বীকার করে মা গর্ভে ধারণ করে সন্তানকে পৃথিবীতে নিয়ে আসে। এ ঋণ কোনোভাবেই শোধ করার নয়। শুধু তাই নয়, সন্তান জন্মের পর নিজের চেয়ে সন্তানই তখন হয়ে ওঠে মুখ্য। এভাবে সারাজীবন মা সন্তানকে আগলে রাখার চেষ্টা করেন।
মাকে শ্রদ্ধা আর ভালবাসা দেখাতে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে নেয়ার যুক্তি অনেকের কাছেই সে ভাবে গ্রহনযোগ্য না হলেও অনেকেই মনে করেন মাকে সন্মান দেখাতে, তাকে গভীরভাবে স্মরণ করতে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত মা দিবসের গুরুত্ব রয়েছে।
মাকে স্মরণ করে জগৎবিখ্যাত মনীষী আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, আমি যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু হয়েছি, অথবা যা হতে আশা করি, তার জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।
জগতে মায়ের মতো এমন আপনজন আর কে আছে! তাই প্রতি বছর এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় প্রিয় মায়ের মর্যাদার কথা। মা মাটি আর মানুষের কথা।

রুপসী বাংলা/ পি এ / বি এস

Check Also

আজ ৭ই জুন, বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ছয় দফা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক, রুপসী বাংলা: আজ ঐতিহাসিক ৭ জুন-একটি স্মরণীয় দিন, একটি মহান দিবস। বাঙালির স্বাধিকারের …

Powered by themekiller.com