পটুয়াখালী-৩  আ’লীগ ও বিএনপির মনোনায়ন দৌড়

মোঃ মামুন তানভীর ঃ

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি কথাটি বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও ভালো করে জানেন। এই আসনে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত শুধু জিয়াউর রহমানের আমলে একবার বিএনপি জিতেছিল। এ ছাড়া সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেন। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সভা-সমাবেশসহ দলগুলোর বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় সরব রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দি”েছন তারা।

আওয়ামী লীগের মনোনায়ন প্রত্যাশী যারা : এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও আলোচনায় দু’জনের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। তারা হলেন এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও দশমিনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শওকত। তারা এলাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন। নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজের দলীয় মনোনয়নের পেতে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শওকত এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শওকতের দিকেই বেশি ঝুকছেন।

জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শওকত জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছি। নির্বাচনে দল আমাকে মনোনায়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।

অন্য দিকে আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন পটুয়াখালী-৩ আসনে এবার নিয়ে চারবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন। তিনি এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দলের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যদি আমাকে না চায় তাহলে আমি নমিনেশন চাইবো কেন। আর যদি সাধারণ মানুষ আমাকে চায় তাহলে অবশ্যই নমিনেশন চাইবো। প্রধানমন্ত্রী যদি কর্মের ও সততার মূল্যায়ন করেন তাহলে আমি মনোনয়ন পাবো।

অপর দিকে বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশীরা হলেন, পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে বিএনপির অনেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও তিনজনের নাম জোর আলোচনায়। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান- এই তিনজন এলাকায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দি”েছন। নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে নিজের দলীয় মনোনয়নের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন তারা। তবে এই প্রথম পটুয়াখালী-৩ এ কোন বিরোধী দলীয় নেতাকে সমর্থন দিয়ে সামনে এগিয়ে রাখছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের কিছু সমর্থকরা।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ,স্হানীয় নেতা ও কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই তিনজনের মধ্যে জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হাসান মামুন। ২০১০ সালে ছাত্ররাজনীতিকে বিদায় জানানোর পর থেকেই তিনি এলাকার রাজনীতে সক্রিয়। দশমিনা-গলাচিপাবাসীর কর্মসং স্হানেও বেশ অবদান রাখেন এই তরুণ রাজনীতিক নেতা।

সবকিছু বিবেচনায় হাসান মামুন এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার আগাম দৌড়ে  এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা ও আওয়ামীলীগ সমর্থকরা।

এই আসনটি মূলত আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত শুধু জিয়াউর রহমানের আমলে একবার এই আসনে জিতেছিল বিএনপি। এ ছাড়া সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেন। প্রার্থী যে-ই হোক এই এলাকার মানুষ ভোট দেয় নৌকায়।

স্হানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে আগামী নির্বাচনে হাসান মামুন মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে শক্ত লড়াই হবে। বিশেষ করে তরুন প্রজন্ম হাসান মামুনের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।

নাম প্রকাশে অনিছুক একাধিক আ’লীগ সমর্থক কর্মীরা বলেন, হাসান মামুনকে দল দেখে নয় আমরা ব্যক্তি ও তার সততা ,আদর্শের জন্য ভোট দিবো। তিনি যখন ছাত্রনেতা ছিলেন তখন যতটা পেরেছেন সাধারন মানুষের উপকার করেছেন। তার থেকে মানুষ খালি হাতে ফেরেনি।

বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি তরুণ নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে বেশ তৎপর। দল থেকে মোট শতাধিক ছাত্র নেতাদের মনোনায়ন দেয়া হতে পারে।

জানতে চাইলে হাসান মামুন এ জানান, ‘আমি এলাকার মানুষের ভাগ্য-উন্নয়নে কাজ করছি।  দল থেকে আমাকে মনোনায়ন দেয়া হলে নির্বাচনে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।

বিএনপির মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনার টেবিলে আরেক নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। তিনিও এলাকায় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নি”েছন। মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে এই বিএনপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একাধিক বার তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি ।

আলোচনায় আছেন আরেক নেতা শাহজাহান খান। তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকবার বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি কখনো। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী।

নিজে সব সময় এলাকায় থাকেন উল্লেখ করে সাবেক এই সাংসদ বলেন, ‘এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে সব সময়ই আছি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরেও আমি মাঠেই আছি। আমি তো ঢাকায় থাকি না। যারা যারা মনোনায়ন পাবেন বলেন তারা ঢাকায় থাকেন ও পেপার পত্রিকায় এবং টকশো করেন। আমি ইনশাআল্লাহ মনোনায়ন ।

Check Also

উদ্বোধন হলো কলাপাড়া পৌরসভার নবনির্মিত বাস টার্মিনাল

আল এহসান সিয়াম: কলাপাড়া-(কুয়াকাটা) প্রতিনিধি: কলাপাড়ায় নতুন বাসস্ট্যান্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কলাপাড়া …

Powered by themekiller.com