মানি লন্ডারিং রোধে ব্যাপক উন্নতির লক্ষন

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। উন্নয়নকারী ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ। ৫৪ নম্বর ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হতে ৮২ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানাযায়, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা বাসেল এন্টি মানি লন্ডারিং (এএমএল) ইনডেস্ক-২০১৭, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে একটি খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ২৮টি দেশকে পিছনে ফেলে র‌্যাংকিং-এ ৫৪ নম্বর ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হতে ৮২ নম্বরে রয়েছে। সূচকে এ বছর সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নকারী ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সূচকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের শীর্ষে রয়েছে ইরান এবং সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের শীর্ষে রয়েছে ফিনল্যান্ড। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান রয়েছে সবার শীর্ষে। তাদের অবস্থান ২ নম্বরে। এছাড়া মিয়ানমার ১৩, নেপাল ১৪, শ্রীলঙ্কা ২৫, পকিস্তান ৪৬, বাংলাদেশ ৮২ এবং ভারত ৮৮ নম্বরে রয়েছে। এ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যথাক্রমে ১১৬ ও ১১৮ নম্বরে রয়েছে।

এ বছর দ্রুত উন্নয়নকারী ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে সুদান, তাইওয়ান, ইসরাইল, বাংলাদেশ, জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, লুক্সেমবার্গ, লাটভিয়া ও গ্রিস। সংগঠনটি জানায়, সূচকে বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়নের কারণ হিসেবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপর এপিজি কর্তৃক পরিচালিত মিউচ্যুয়াল ইভালুয়্যাশন রিপোর্টে ব্যাপক উন্নতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, আন্তঃসংস্থার কাজের সমন্বয়, আর্থিক খাতে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের লোকবল ও অর্থের সংস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, এপিজির মিউচ্যুয়াল ইভালুয়্যাশন রিপোর্ট মোতাবেক বাংলাদেশ এফএটিএফের ৪০টি সুপারিশের বিপরীতে ৬টিতে কমপ্লায়েন্ট, ২২টিতে অধিকাংশ কমপ্লায়েন্ট এবং ১২টিতে আংশিক কমপ্লায়েন্ট রেটিং পেয়েছে। বাংলাদেশ এফএটিএফের ৪০টি সুপারিশের সবকটিই বাস্তবায়ন করেছে।

উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থাটি গত ছয় বছর যাবৎ কোনো একটি দেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে ঘাটতি, স্বচ্ছতার ঘাটতি, উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির ধারণা সূচক, আর্থিক মানদ- ও স্বচ্ছতা ও দুর্বল রাজনৈতিক অধিকার ও আইনের শাসন। এ পাঁচটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে বাসেল এন্টি মানি লন্ডারিং (এএমএল) নির্ধারণ করে থাকে। এছাড়া বিশ্বের ১৪৬টি দেশের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে তাদের অবস্থান প্রকাশ করে থাকে সংস্থাটি।

Check Also

মেঘনা- ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতায় ধান ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে বেশ কয়েকদিনের ঝড় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে …

Powered by themekiller.com