আঙুল ফোটাচ্ছেন নাতো

আঙুল ফোটানোর অভ্যাস আমাদের সবারই কমবেশি আছে। এই কাজের অবসরে, গল্পের ফাঁকে ফাঁকে, চিন্তাভাবনার সময় কিংবা অবসাদে- আমারা খেয়ালে বেখেয়ালে আঙুল ফোটাই আমরা।
আসলে আমাদের শরীরের অস্থিসন্ধিতে (যেমন হাতের আঙুলের যেখানটায় চাপ দেওয়া হয়) কিছু খালি জায়গা থাকে। এ জায়গাগুলো তরল অস্থিমজ্জা দিয়ে ভরাট থাকে। এতদিন ভাবা হতো, আঙুল ফোটানোর সময় অস্থির মাঝে ফাঁক বেড়ে যায়। এর ফলে বুদ্বুদ সৃষ্টি হতো। সেটা বেড়িয়ে যাওয়াতেই সে শব্দটা সৃষ্টি হয়। মাঝেমধ্যে এই শব্দটা শুনতে ভালোই লাগে।
কিন্তু এই অভ্যাস কি আমাদের জন্য ভালো না খারাপ? এ নিয়ে দ্বিমত আছে অনেক। কেউ বলবে এটা উচিত না, বাতের ব্যথা হবে। আবার কেউ বলবে এর উপকারিতাও আছে। বিজ্ঞান কি বলে তা একটু দেখে নেই।
আঙুল ফোটানোর অভ্যাস যে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে তা আমরা জানি না। জানা যায়, আঙুল ফোটানোর সময় আঙুলের হাড়ের সংযোগস্থলে জমে থাকা তরল বস্তুর মধ্যে গ্যাসের গহ্বর সৃষ্টি হয়৷ ধীরে ধীরে তা এক গর্তের রূপান্তরিত হয়৷ এবং পরবর্তীকালে এর থেকেই সেই গিঁটে ধরতে পারে।

এই বিষয় নিয়ে নানা গবেষণা চলে আসছে, যা নিয়ে হয়েছে বহু তর্ক-বিতর্কও৷ বহু আগে একদল গবেষক জানিয়েছিলেন, আঙুল ফোটানোর শব্দ হয় হাড়ের সংযোগস্থলে গ্যাসের বুদ্বুদ গঠনের কারণে। তবে এই বক্তব্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন আরেক দল বিজ্ঞানী৷ তাঁদের মতে, হাড়ের সংযোগস্থলের ফাঁকা অংশে জমে থাকা তরল বুদ্বুদ ধ্বংসের ফলে এই শব্দের সৃষ্টি হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে অত্যাধুনিক ভিডিওতে ধরা পড়ে যে, ক্র্যাকিং এবং জয়েন্টের বিচ্ছেদের ফলে দ্রুত জমে থাকা তরলের মধ্যে গ্যাস ভরা গহ্বর সৃষ্টি হয় এই পিচ্ছিল তরল পদার্থ জয়েন্টগুলোকে আবৃত করে রাখে।
অনেক গবেষকের মতে, আমাদের সন্ধি গুলো হঠাৎ আলাদা হলে, ওই সময় সেখানে কোনো তরল পদার্থ অবশিষ্ট থাকে না। এসময় একটি ক্ষত সৃষ্টি হয় এতেই সৃষ্টি হয় শব্দ। কিছু বিজ্ঞানী জানান, চাপের ফলে উৎপন্ন শক্তি হাড়ের কঠিন পৃষ্ঠতলের খুবই ক্ষতি করে থাকে। আর তাই এখন থেকে আঙুল ফোটানোর আগে সাবধান হতে হবে।

Check Also

রমজানে ডায়বেটিস রোগীদের জন্য খাদ্যের পরামর্শ

\ আহ্লুল জান্নাত \ ডায়াবেটিস ইনসুলিনের সমস্যা জনিত রোগ। কারো রক্তে গøুকোজ সুনির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম …

Powered by themekiller.com