আজও বজ্রপাতে ২১ জনের জনের মৃত্যু

হবিগঞ্জে ৬ জনসহ দশ জেলায় বুধবার বজ্রপাতে ২১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৪ জন। সোমবার ও মঙ্গলবার বজ্রপাতে ৯ জেলায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বজ্রপাতে তিনদিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪০। সরকারি হিসেবে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসে বজ্রপাতে ৭০ জন নিহত হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে প্রতিদিনই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মানবকণ্ঠের জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে বিস্তারিত পড়ুন।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ছয় কৃষক নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে তারা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। এতে আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে হঠাৎ জেলার বিভিন্ন স্থানে তুমুল কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। মাত্র আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয় ঝড়। এ সময়ে ঝড়ে হাওয়ায় ধান কাটা অবস্থায় ছয়জন কৃষক বজ্রপাতে মারা যান।

এর মধ্যে বানিয়াচংয়ের মাকালকান্দি হাওরে দাইপুর গ্রামের বসন্ত দাশের ছেলে স্বপন দাশু (৩৫)। একই উপজেলার নূরপুর হাওরে সিরাজগঞ্জ জেলার দত্তকান্দি এলাকার বাসিন্দা জয়নাল উদ্দিন (৬০) মারা যান। এ দুটি স্থানে আহত হন আরও ছয়জন। এছাড়াও নবীগঞ্জ উপজেলার বৈলাকীপুর গ্রামের হাওরে নারায়ন পাল (৪০) ও আমড়াখাই হাওরে হাবিব উল্লাহর ছেলে আবু তালিব (২৫) বজ্রপাতে মারা যান।

অপরদিকে লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া হাওরে সফি মিয়া (৫৫) ও মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম হাওরে রাম কুমার সরকারের ছেলে জোহর লাল সরকার (১৮) বজ্রপাতে মারা যান। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসের বজ্রপাতের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বরত কর্মী আব্দুল নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক নারীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলার নিকলী উপজেলার ছাতিরচর এলাকায় ও পাকুন্দিয়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকায় পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের পরিষদপাড়া মাঈন উদ্দিনের ছেলে শাহ জালাল (২৫) ও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকার সুধীর চন্দ্র বর্মণের স্ত্রী দিপালী রানী বর্মণ (৩৮) ।

স্থানীয়রা জানায়, নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের পরিষদপাড়ার শাহ জালাল বাবার সঙ্গে হাওরের জমি থেকে ট্রলি দিয়ে ধান আনতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, পাকুন্দিয়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকায় দিপালী রানী বর্মণ বাড়ির উঠোনে কাজ করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের লোকজন দিপালীকে আহতাবস্থায় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিকলী থানার ওসি নাসির উদ্দিন ভুইয়া ও পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলার জলঢাকা উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের শালনগ্রাম ডুগডুগি এলাকার মৃত ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রী আসমা বেওয়া (৫৫) ও কাঠাঁলি ইউনিয়নের উত্তর দেশিবাই গ্রামের সফর উদ্দিনের ছেলে নুর আমিন (৪০)।

Check Also

আমার ছেলেটাকে দেখে রেখো

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ধলেশ্বরী নদী থেকে নুরুন্নাহার মিমি (৩২) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ মঙ্গলবার সকালে …

Powered by themekiller.com